সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পরাবাস্তব শহরে

 ভাজা রুটির মত অস্বচ্ছ কাচের জানালা দিয়ে যখন মুক্ত বিহঙ্গের ছবি তুলি, 

            তখন শহরে একটি সর্বনাশ ঘটে গেছে। 

ক্রেন উল্টে গেছে, 

মানুষ চাপা পড়েছে 

বর কনে বসে আছে পাশাপাশি 

জীবন্ত অথচ ধূসর একটি সময়ে

পাশের আত্মীয়টি থেতলে মরে পরে আছে

গাড়িটি থমকে আছে,

চারিপাশে অসংখ্য কৃত্রিম চোখ সংগ্রহ করছে তাদের দূর্দশার চিত্র।

কারোরটা স্থির,কারোরটা গতিশীল 

স্থানীয় সময় থেকে শুরু করে তথ্যবহুল এক-একটি উপস্থাপনা।

আমি যখন বিহঙ্গদের উড়েচলা দেখছিলাম

তখন শহরের একটি প্রেম যুগলবন্দী হচ্ছিল 

লিফট বেয়ে বাসায় এসে দেখি সর্বনাশের ভিডিও

কাফকাকে হাত বুলিয়ে দিলাম

বল্লাম গ্রেগর স্যামসাতো একটি রাতের সময় পেয়েছিল 

অথচ দেখো কত দ্রুততর সময়ে তারা বসে আছে মৃতদের সাথে

অসচ্ছ কাচের বাইরে দিয়ে উড়ে চলা বিহঙ্গরা কোথায় যাচ্ছে?  কারা ওরা? 

আমি ঘেমে উঠি

বিরবির করে বলে উঠি সেই সকল অপরিতুষ্ট আত্মা

আমি মেটামরফোসিস থেকে ভুতের গলির দিকে আগাই

শহিদুল জহির আমাকে মালিটোলা থেকে নিয়ে আসে

পরাবাস্তবতার শহরে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার বিশখালী

বহুকাল এমন সন্ধ্যা নামেনি বিশখালীতে সূর্যের রক্তাক্ত আবরণ অনুভব করেনি কেউ ঢেউ দেখেনি কেউ আহ্লাদে আকুলতায় একগাদা থু নিক্ষেপে জলের নৌকা ওপারে পৌঁছে।  কলকল ধ্বনি মোহবন্ধ করেনি কাউকে সায়হ্নের নিঝুম প্রগাঢ়তা অনুভব করেনি কেউ বিভোর হয়নি জলের আছড়ে পড়া টেউয়ে মূর্ছনায়  ময়লার স্তুপে জল থৈ থৈ শব্দে মন নাচে প্রবাসে। ক্লান্ত রথে জীবনানন্দ থমকে তাকিয়ে মরু হয়ে যাওয়া ধানসিঁড়ি তার মনে রাখেনি কেউ খোঁজ নেয়নি ধান-শালিকের ফিরে আসা সন্ধায় দিনশেষে ছোট্ট খাল বয়ে চলে মোহনায়;ধানসিঁড়ি পরিচয়ে। এখানে বহুকাল সন্ধ্যা আসেনি কবিতা হয়ে এখনো সন্ধ্যা আসে কবিতার বেশে খবর নেয়না কেউ কবিতার স্কেচে ছন্দহীন ব্যাকুলতায় আমার বিশখালী রোজ দোলা দিয়ে যায়;সন্ধ্যার বাতায়নে।

কবিতারা

 এই যে কবিতারা তোমার সঙ্গে হাটে কাঁদে,হাসে,লুটোপুটি খায় নিটোল কপোল বেয়ে ঝড়ে পড়ে টপটপ বৃষ্টি ফোটার মত তুলোর মত আছড়ে পড়ে চোখের পালক ঘেষে কেশে। এইসব কবিতারা নিরব নিথর দেহে বিমর্ষ ম্লান বদনে লেপটে যায় নির্ঝর পেন্সিলের ধূষর লেখনীতে অশ্রুর উষ্ণ প্রবাহের মত তরঙ্গের মত আছড়ে পড়ে সন্ধ্যার নিঝুম বিমর্ষ খেয়াপাড়ে। এই সহস্র কবিতারা পৃথিবীর বহুরূপী বেশে  শোষণ,শাসন,প্রেম,প্রকৃতির ছায়ায় আদি থেকে অন্তে কবির কল্পলোকে রুক্ষ প্রগাঢ় ইতিহাসের মত  কমনার মত আছড়ে পড়ে কালের সাক্ষী হয়ে হৃদয় মন্দিরে।

বিভোর ও ঘোর

মগডালের উপর কাকটা ভিজে যাচ্ছে। দক্ষিণের জানালার শিক গলে অনবরত গুড়ি বৃষ্টি এসে পড়ছে নাকের ডগায়।হালকা শীত, মোটা কাঁথা আবার চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখা।শেষ রাত থেকে ফাগুনের বৃষ্টি অঝোরে ঝরে পড়ছে।দক্ষিণা বাতাসের সাথে কার্নিশ চুইয়ে টুপ টুপ শব্দে আছড়ে পড়ছে কঙ্ক্রিটের উপর।ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় দেশটিতে এখন হারহামেশাই ঘটে এমন।বৃষ্টির আলাপন চলে বারোমাস।পাশের বাসার টিনে বৃষ্টির তান,মোড়ের মাঠে আল্পনা এঁকে উপচে পড়ছে বাতায়নে।আষাঢ় মাসের এরকম সকালগুলোতে আধঘুম চোখে কাক ভেজা হয়ে ক্লাস ধরার স্মৃতি রোমন্থন করার সাথে শিহরণ নিয়ে যায় ঘুমের দেশে।ঘুমিয়ে পড়লাম, সাড়ে সাতটার এলার্মও তখন ঘুমাচ্ছে।  মিঁয়াও মিঁয়াও বিড়ালের ডাক।তন্দ্রালু দেহে অনুমান করতে পারছিনা বিড়ালের ডাকের উৎস।বাসায় একা।টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছে। বিড়াল আসবে কোত্থেকে।কফি পাওয়া গেলে ভালো হতো।বিছানা ছেড়ে উঠে পত্রিকার খোঁজ করতে গিয়ে দেখি বসে আছে কালো বিড়াল।পেটে বাচ্চা এসেছে বোঝা যায়। একটু গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছিস।হতচকিত একটা উত্তর এলো "আমাকে বলছেন??" ঘুম থেকে উঠে নিটোল সুন্দরীর আচমকা প্রশ্নে  থতমত খেয়ে গেলাম। মাথা নাড়িয়ে ইঙ্গিত করলাম বিড়ালের দিক...